২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বার্ষিক চাহিদা কমতে পারে। তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে এটিই হবে দেশটির জন্য প্রথমবার এলএনজির আমদানি হ্রাস। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকারকরা আশা করছেন যে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে। এতে দামও কমতে পারে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক ভারত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।
উচ্চমূল্যের কারণে বিকল্প জ্বালানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না এলএনজি। পাশাপাশি বর্ষাকালে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠাণ্ডা থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। এসব কারণ জ্বালানি পণ্যটির আমদানি হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। তবে এ পতন বৈশ্বিক এলএনজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এলএনজি আমদানিতে এ হ্রাস অস্থায়ী।
রাইস্ট্যাড এনার্জির গ্যাস ও এলএনজি গবেষণা বিভাগের উপপ্রধান কৌশল রমেশ বলেন, ‘২০২৫ সালের এ ধাক্কা মূলত উচ্চমূল্যের কারণে। পরবর্তী বছরগুলোয় আরো চুক্তি কার্যকর হবে। তখন স্পট মার্কেটে পণ্যটির দামও কমে আসবে।’
এশিয়ার স্পট মার্কেটে চলতি বছর এলএনজি লেনদেন হয়েছে এমএমবিটিইউপ্রতি ১১ ডলারের বেশিতে। এ দামে ভারতীয় কোম্পানিগুলো সাধারণত পিছিয়ে যায়। এতে দেশটিতে শিল্প, শোধনাগার ও সার খাতে এলএনজির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজির চাহিদা বাড়বে। নরওয়েভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ভারতের বার্ষিক এলএনজির চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে চার কোটি টন। গত বছর চাহিদা ছিল প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টন। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার পর্যন্ত গ্যাস ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছে, যা বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ।
এ লক্ষ্যে ভারত গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় অর্ধেকই এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। এজন্য বহু বিলিয়ন ডলারের নতুন রফতানি প্রকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি মিলানে গ্যাসটেক ইভেন্টে ভারতীয় আমদানিকারকরা নতুন সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শেল গত মাসে ভারতের পশ্চিম উপকূলে তাদের এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা চার গুণ বাড়াতে পরিবেশগত ছাড় চেয়েছে। এছাড়া ইনভেনির এনার্জি দেশটির পূর্ব উপকূলে নতুন আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের অনুমতি পেয়েছে।